ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম | চিয়া সিড এর দাম কত বাংলাদেশে
ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে অনেকেই স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ সচেতন। বিশেষ করে করোনাকালীন জটিলতার পর সেই সচেতনতা বেড়েছে আরও কয়েক গুণ। প্রতিদিনের খাবার ও খাবারের পুষ্টিগুণাগুণ নিয়ে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। প্রতিদিনের খাবারে কি কি পুষ্টিগুণ আছে, আর কি কি খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি পাওয়া যাবে তা নিয়ে সচেতন অনেকেই। আর তাই নিত্য নতুন খাবারে মনোযোগ সবার। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় এখন বেশ জনপ্রিয় নাম ‘চিয়া সিড’ বা "চিয়া বীজ"।
চিয়া সিড কি?
চিয়া সিড পুষ্টিকর সুপারফুড হিসেবে খুব পরিচিত। এটি মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলে চিয়া নামে এক ধরনের গাছে পাওয়া যায়। চিয়া সিড মূলত মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া উদ্ভিদের বীজ। পুদিনা পরিবারের ছোট এই গাছটির বীজ হচ্ছে চিয়া সিড। সাদা, কালো ও বাদামি রঙের চিয়া সিডগুলো আকারে খুবই ছোট আকারের হয়, যা অনেকটা তিলের দানার মতো। পানিতে ভেজালে চিয়া সিড ফুলে উঠে ১২ গুণ পর্যন্ত বড় হতে পারে। এটি সাধারণত শস্যের তালিকায় পড়লেও একে এক ধরণের ভেষজও বলা হয়।
চিয়া সিড এর উপকারিতা ও অপকারিতা
চিয়া সিড খাওয়ার ৭ ধরণের উপকারিতা ঃ
১. চিয়া সিড এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে আরও শক্তিশালী ।
২. চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ হৃদরোগের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে ।
৩. বিশেষজ্ঞদের মতে মুরগির ডিম থেকে ৩ গুণ বেশি উচ্চমাত্রার প্রোটিন আছে চিয়া সিডে। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও উপকারী।
৪. দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় চিয়া বীজে। যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মজবুত করে তুলতে বিশেষ উপকারী।
৫. গবেষকদের দাবি, চিয়া সিডে এ স্যালমন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।
৬. চিয়া সিড ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৭. এ ছাড়া চিয়া সিড শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হতে সাহায্য করে থাকে। সেইসাথে গ্যাসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে।
চিয়া সিড খাওয়ার অপকারিতা
প্রতিটি খাবারের উপকারিতার পাশাপাশি বিপরীত অপকারিতাও থাকে কিছুনা কিছু। তেমনই চিয়া সিডের ও কিছু অপকারিতা রয়েছে।
১. কয়েকজন বিজ্ঞানীর দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে চিয়া সিড প্রোটেস্ট ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। সুতরাং এটি সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।
২. চিয়া সিড বেশি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। কারণ চিয়া বীজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই অল্প পরিমাণে চিয়া খাওয়া উচিত। আর স্বাস্থ্য সমস্যা মনে হলে সাথে সাথে এটি খাওয়া বন্ধ কড়া উচিত।
৩. অতিরিক্ত চিয়া সিড খেলে ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।
৪. চিয়া সিড দেহের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ কমায়। তাই অতিরিক্ত চিয়া সিড সেবনে রক্তচাপ বেশি কমে যাওয়ান সম্ভাবনা থাকে।
চিয়া সিড খেলে কি এলার্জি হয়
হ্যাঁ, চিয়া সিডে অ্যালার্জি হতে পারে, তবে এটি তুলনামূলকভাবে বিরল। যাদের আগে চিয়া সিডে অ্যালার্জি হয়েছে বা কিছু খাবারের বীজে অ্যালার্জি আছে, তাদের বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত।
অ্যালার্জির সম্ভাব্য লক্ষণ
চিয়া সিড খাওয়ার পর যদি এগুলো দেখা দেয়, তাহলে অ্যালার্জি হতে পারে:
- মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা চুলকানো/ফুলে যাওয়া
- ত্বকে চাকা চাকা দাগ বা চুলকানি
- গলা চুলকানো বা ফুলে যাওয়া
- বমি, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট বা বুক চাপ লাগা
শ্বাসকষ্ট, গলা/জিহ্বা দ্রুত ফুলে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ হলে এটি জরুরি অবস্থা—তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা নিন।
প্রথমবার খেলে অল্প পরিমাণে শুরু করা ভালো এবং কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন।
চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
চিয়া সিডের স্বাদ নিরপেক্ষ। এর নিজস্ব কোন স্বাদ না থাকায় এটা সাধারণত সালাদ, কাস্টার্ড, দুধ বা জুস সহ স্মুদি যেকোন খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
চিয়া সিড কিভাবে খেতে হয়
আপনারা চিয়া বীজকে বিভিন্ন ধরণের খাবারে যোগ করে কাঁচা খেতে পারে, যেমন সিরিয়াল, দই, স্মুদি এবং সালাদে টপিং হিসাবে। চিয়া বীজকে পানিতে ভিজিয়ে রাখাও সম্ভব, যা বীজকে জেলের মতো পদার্থে পরিণত করে। এটি চিয়া বীজ পুডিংয়ের মতো মিষ্টি ঘন করার জন্য তাদের উপযোগী করে তুলতে পারে।
তবে খাওয়ার আগে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।
| ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম |
ওজন কমাতে চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
বিশেষজ্ঞদের মতে দ্রুত ওজন কমাতে খালি পেটে সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস পানির মধ্যে ২ চা চামচ চিয়া সিড ও ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
চিয়া সিড এর দাম কত
অনেকেই চিয়া সিড এর দাম কত তা জানতে চান। স্থান ভেদে এর দামের তারতম্য হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও এই বীজের দাম অনেক কম আবার কোথাও কোথাও এই বীজের দাম অনেক বেশি। সবচাইতে ভালো হয় আপনি আপনার নিজস্ব এলাকায় এই পণ্যের দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। অনলাইনে থেকেও আপনি এটি কিনতে পারবেন তবে দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।
অনলাইনে যেহেতু স্থানীয় বাজারের দামের চেয়ে মোটামুটি বেশি হয়ে থাকে, এক্ষেত্রে প্রতি কেজি চিয়া সিড এর দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ ১ কেজি চিয়া সিড এর দাম ১০০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলো থেকে আপনি ৫০০ গ্রাম বা ১০০০ গ্রাম আকারে আপনার ইচ্ছামতো চিয়া সিড ক্রয় করতে পারবেন।
যেহেতু বর্তমানে বাংলাদেশে এর উৎপাদন হয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। চিয়া সিড (chia seeds) স্থানীয় বাজারে ৫০০-৬০০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে।
যাদের ওজন কম তারা খেলে কি কিছু হবে
হ্যাঁ, যাদের ওজন কম তারাও চিয়া সিড খেতে পারেন, তবে উদ্দেশ্যটা গুরুত্বপূর্ণ।
- চিয়া সিড নিজে থেকে সাধারণত ওজন খুব বেশি কমিয়ে দেয় না।
- এতে ফাইবার বেশি, তাই বেশি পরিমাণে খেলে পেট ভরা লাগতে পারে এবং খাবারের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে যাদের ওজন কম, তাদের জন্য অতিরিক্ত চিয়া সিড খাওয়া উপযুক্ত নাও হতে পারে।
- ওজন বাড়াতে চাইলে চিয়া সিডকে খাবারের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে খাওয়া ভালো। যেমন দুধ/দই, বাদাম, কলা বা ওটসের সঙ্গে।
- শুরুতে ১ চা-চামচ প্রতিদিন যথেষ্ট; পর্যাপ্ত পানি পান করবেন।
আপনি যদি বলেন আপনার বয়স, উচ্চতা ও ওজন কত, আমি হিসাব করে বলতে পারি আপনার ওজন কম, স্বাভাবিক নাকি বেশি এবং চিয়া সিড কীভাবে খাওয়া আপনার জন্য উপযুক্ত।
মেদ কমাতে চিয়া বীজ
